স্বামী ও স্ত্রী

বাসর ঘরে ঢুকতেই বউ আমাকে নমস্কার জানালো।আমিও
নমস্কার উত্তর শুনে পাশে গিয়ে বসলাম।পাশে বসতেই
বৌ আমাকে বলল….
—-ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখুন তো কয়টা বাজে??
বাসর রাতে বৌয়ের এমন সাহসী প্রশ্নে কিছুটা বিচলিত
হলাম।তখন ঘড়িতে তাকিঁয়ে দেখি রাত ১২.৩০মিঃ।আমি
বৌয়ের পাশে বসে আস্তে করে বললাম…..
—-শোনো আমার এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই ছিলো
না।আমার বাবা-মায়ের পছন্দেই তোমাকে বিয়ে করেছি।
তবে আমার কারো সাথে কোন সম্পর্ক ও নেই।কিন্তু আমি
বিয়ের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।তাই আমি
এখন চাইলেও এত সহজে তোমাকে বউ হিসেবে মানতে বা
বৌয়ের অধিকার দিতে পারবোনা।
কথা গুলো বলে শেষ করা মাত্র ই
নতুন বউ আমার পাঞ্জাবির কলারটা চেপে ধরে বলল…..
—-আমাকে কি খেলার পুতুল মনে হয় নাকি??পছন্দ হয়নি,
বিয়ে করতে চাননি এইটা আগে বলতে পারলেন না??
নিজের মায়ের মন রক্ষা করতে আমার সব আশা-স্বপ্ন কে
কেন বলিদান দিতে হবে?
বিয়ে করার ইচ্ছে নেই,এইটা আমাকে আগে বললেই
পারতেন।তবেই আমি আমার পক্ষ থেকে বিয়ে ভেঙে
দিতাম।মায়ের প্রতি ভন্ড ভক্তি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে
আমার জীবনটা কেন এইভাবে নষ্ট করে দিলেন হুম?
আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি।এখন আমি
যেভাবে বলব সেভাবেই সব হবে। ঠিক আছে????
বলেই কলার টা ছেড়ে দিলো।পরে আবার বলল….
—-আচ্ছা যা হবার তা তো হয়েই গেছে।
দিতে হবে না আপনাকে বউয়ের অধিকার।
যান নিচে গিয়ে ঘুমান।একদম খাটে ঘুমাতে পারবেন না।
বলেই আমার বালিশ পা ফ্লোরে ছুড়ে মারলো।আমি ও
বাধ্য ছেলের মতো ফ্লোরেই শুয়ে পড়লাম।আর মনে মনে
ভাবতে লাগলাম,কেমন গুন্ডি মেয়ে রে বাবা।জীবনেও
এমন মেয়ে দেখিনী।
মনে তো হচ্ছে জীবন পুরাই তেজপাতা করে ছাড়বে।
.
ফ্লোরে ঘুমই আসছেনা।কখনই ফ্লোরে ঘুমাই নি।কিন্তু
আজকে নিজের অমতে বিয়ে করার কারনেই ফ্লোরে
ঘুমাতে হচ্ছে।
এর মধ্যে মশার আন্দোলন। ইসসসসসস,,,,,,সহ্য হচ্ছেনা।চোখ
বন্ধ শুয়ে করে আছি।কখন জানি ঘুমটা লেগে গেছে
বুঝতেই পারিনি।হঠাৎই সজাগ হয়ে দেখি আমার শরীরে
কম্বল আর পাশে ও মশার কয়েল লাগানো।মনটাতে একটু
স্বস্তি পেলাম,চোর হলেও মানুষ ভালো।
মনে মায়া-দয়া আছে।
.
পরের দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি টেবিলে চা রাখা।চা
খেয়ে,ফ্রেশ হয়ে রুমে বসে ফোন টিপছিলাম তখন ই
তানিয়া (আমার বৌ)এসে বললো…..
—-এইযে সেই কতক্ষন যাবত খাবার নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে
আর আপনি ঘরে বসে আছেন কেন?এখনি নিচে চলুন আগে……??বলেই আমার কানের কাছে এসে আস্তে করে
বললো…
—–নাকি খাবার টা রুমে নিয়ে আসবো?
আমি তো হার্ট এ্যাটাক হতে হতে বেচেঁ গেছি।আমি তো
ভাবছিলাম,বউ বুঝি এইবার ও কলার ধরেই আমাকে খাবার
টেবিলে নিবে।কিন্তু না,বউয়ের স্বর পাল্টে গেছে,তবে
কি বউ আমার প্রেমে পড়ে গেল নাকি??কথাটা ভাবতে
ভাবতেই বউয়ের দিকে তাকালাম।হা হয়ে তাকিঁয়ে
আছি,বউ তো আমার হেব্বি সুন্দরী।রাতে তো ভাবছিলাম
হিটলারনি।এখন দেখি না মায়াময়ী।এইবার যে আমি
বউয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম।নিজেই নিজেকে বললাম…
—-পিন্টু মনে হয় তুই তোর হিটলারনি বউয়ের প্রেমে পড়ে
গেছিস।
.
হঠাৎ একটা বিকট শব্দে বাস্তবে ফিরলাম।
সামনে তাকিঁয়ে বউ আমার ফ্লোরে পরে চোখ বন্ধ করে
আছে।বুঝতে পারলাম,পাগলীটা খুবই ব্যথা পাইছে।
দৌড়ে গিয়ে টেনে তুলে বসাতে গেলাম আর অমনি
আস্তে করে বলল…..
—-কেমন স্বামী গো আপনি??
আমি তো একটু ভ্যাবাচ্যকা খেয়ে গেলাম।
বললাম…
—-আমি আবার কি করলাম।
বৌ বলল….
—-আমি মাটিতে পরে আছি কই কোলে করে নিয়ে
বিছানায় শোয়াবেন,তা না করে আমার হাত ধরে
টানছেন।
সাথে সাথেই আমি কোলে করে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে
দিলাম।
আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল….
—-ইচ্ছে করে এইভাবে ই ধরে রাখি সারাটা জীবন।কিন্তু
আপনি তো আমাকে পছন্দই করেন না।
কথা শেষ করেই তানিয়া দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
আমারও বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল।আমারো খুব বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল *
কপালে একটা চুমো একেঁ দিয়ে বলি …
—-পাগলী আমি যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি
গো।
কিন্তু পারলাম না।কোথায় জানি একটা বাধাঁ
পাচ্ছিলাম।এই সুযোগে তানিয়া আমাকে ঠেলে
বিছানায় ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালালো।আমি শুধু ওর
চলে যাওয়ার পানে তাকিঁয়ে রইলাম।পরক্ষনেই খেয়াল
হলো,ও তো ব্যথা পাইছে।যার কারনে কোলে করে
উঠাতে হলো।বুঝতে আর বাকি রইলো না,এইবার ও
আমাকে বোকা বানানো হয়েছে।
.
পাগলিটার সাথে খুনসুটি প্রেম করতে করতেই কেটে গেল
২টা বছর।এখন কেউ কাউকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারিনা।
আমার পাগলীটা এখন গর্ভবতী।
তাই খুব যত্ন নেই তার।আজকেই বাচ্চা হবার তারিখ
দিয়েছে ডাক্তার।
আমি অফিসে ছিলাম,হঠাৎই বাবার ফোন পেয়ে ছুটে
গেলাম হসপিটাল।গিয়েই শুনলাম আমার ঘর আলো করে
এসেছে এক ছোট্ট রাজকন্যা।
কিন্তু….
আমার পাগলিটার কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিনা কেন??ভয়ে
আৎকে উঠলাম।অনেকের মুখেই শুনেছি,বাচ্চা জন্ম দিতে
গিয়ে মারা গেছে অনেক মা।সে ভয়েই বাচ্চা নিতে
চাইনি।কিন্তু ওর নাকি বাচ্চা লাগবেই।
ওর ইচ্ছে পূরন করতে গিয়েই কি তবে……???
আর ভাবতেই পারছিনা।
আর একটা মিনিট ও নষ্ট না করে,দৌড়ে গেলাম কেবিনে।
গিয়ে দেখি বাচ্চা টা হাত পা নাড়িয়ে খেলছে।
কিন্তু তানিয়া চোখ বন্ধ করে রাখছে।
ওর নিঃশ্বাস আছে কি নাই তা দেখার মতো ধৈর্য আমার
ছিলোনা।তাই তানিয়াকে জড়িয়ে চিৎকার দিয়ে
ফেললাম।
সাথে সাথেই কানের কাছে একটু ব্যথা অনুভব করলাম।
পরে দেখি তানিয়া আমার আস্তে করে কানে কামড়
দিয়ে বলল….
—–কি ভাবছিলা তোমাকে একা রেখে চলে যাবো??
আরে না গো,আমি চলে গেলে,তোমাকে জ্বালাবে
কে??
আমিও বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলাম।আর
বললাম,বড্ড ভালোবাসি রে পাগলি তোকে।ছাড়বোনা
কখনই। 💗💗💗💗
সংগৃহিত..

Advertisements

ভালবাসা

ভালোবাসাটা ভাই-বোনের♥♥♥

ভাই – দিদি পঞ্চাশটা টাকা দে তো।
বোন- কি !! টাকা কি গাছে ধরে নাকি?
ভাই- তুই না কাল টিউশনির টাকা পেলি, ঐখান থেকে দেনা দিদি।
বোন- কানের কাছে ঘেনর ঘেনর করিস নাতো, ভাগ এখান থেকে।
ভাই – আমাকে টাকা দিলেই তো চলে যাই। আচ্ছা পঞ্চাশ টাকা না চল্লিশ টাকা দে।
বোন – ইস্ তোর জ্বালায় আর পারা গেল না। এই নে কুড়ি টাকা, ভাগ এখান থেকে।
ভাই – মাত্র কুড়ি টাকা দিলি । Ok সমস্যা নাই চটপটি এনে তোকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাব । তখন কিন্তু আবার নজর দিস না।
বোন – কি!! চটপটি খাবি তুই। এই নে আরো বিশ টাকা,আমার জন্যেও আনিস।

মোট চল্লিশ টাকা নিয়ে আবির দরজার সামনে গিয়ে বলতে লাগলো……

ভাই – আমি কি তোর মত মেয়ে মানুষ নাকি যে চটপটি খাব! আমার টাকাটা দরকার ছিল তাই তোকে বোকা বানিয়ে নিয়ে গেলাম।
বোন – তবে রে পাজি তোর একদিন কি আমার একদিন। খবরদার আমার টাকা দিয়ে যা,না হয় বাসায় ঢুকতে দিব না।
কে পায় আর আবির এর নাগাল?
আবির এর বড় বোন, আবির যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চটপটি রান্না করেছে কিন্তু খাই নি। মনস্থির করেছে আবির আসলে তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাবে। একটুও দিবে না তাকে।রাত আট টায় বাড়ি ফিরেছে আবির।
আবির ভেবে রেখেছে দিদি অবশ্যই তাকে বকা দিবে কিন্তু না কোন টু শব্দ পর্যন্ত করলো না। আবির ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে। কিছুক্ষণ পর তার বোন একটি প্লেটে করে কি যেন এনে খেতে শুরু করলো।
ভাই – কি খাস দিদি?
বোন – মধু খাই মধু। এই মধুর নাম চটপটি, খাবি…..?
ভাই – দে না দিদি একটু খাই।
বোন – ভাগ এখান থেকে। বিকালে আমার থেকে চটপটির কথা বলে টাকা নিয়েছিস মনে আছে? এখন আমি খাই, তুই চেয়ে চেয়ে দেখ।
আবির গোমরা মুখে বসে আছে আর তার বোন চটপটি খাচ্ছে আর মিটমিট করে হাসছে।
বোন – আবির…
ভাই – বল
বোন – ফ্রিজে, প্লেটে চটপটি রাখা আছে নিয়ে খা। আবার না দিলে তো আমার পেট খারাপ হবে।😉
মূহুর্তেই আবিরের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেল।
ভাই – লক্ষ্মী দিদি আমার…
এই কথা বলে চটপটি আনতে ফ্রিজের দিকে অগ্রসর হয় আবির।
এভাবেই অনেককিছু নিয়ে মান অভিমান করেই কেঁটে গেল অনেকটা বছর।
আজ আবিরের বাড়ি আলোক উজ্জ্বল।নিয়ন বাতিগুলো জ্বলছে আর নিভছে।তার বোনের আজ বিয়ে। কিন্তু আবিরের এর বুক ফেটে কান্না পাচ্ছে..
দিদি চলে গেলে কার সাথে সে খুনসুটি করবে। কে তাকে চটপটি বানিয়ে খাওয়াবে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ এখন বর যাত্রী তার বোনকে কে নিয়ে চলে যাবে,
কিন্তু আবির কিছুতেই মানতে পারছে না যে তার দিদি আর এই বাড়িতে থাকবে না। দুই ভাই বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
বোন – আবির কথা দে ভাই,দিনে একবার করে হলেও আমার সাথে ঐ বাড়িতে গিয়ে দেখা করবি? কথা দিলাম প্রতিদিন তোকে আমি চটপটি বানিয়ে খাওয়াবো।
আবির এর মুখ দিয়ে কথা বের হয় না, শুধুই নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিদির দিকে। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।তার চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু নামতে শুরু করেছে।বোন উপস্থিত থাকায় সে বুঝতে পারেনি বোনের ভালোবাসাটা।আজ বোনের ভালোবাসাটা শুধুই স্মৃতি।
সেই স্মৃতিতে ডুবে থেকে বোনের ভালোবাসাটা উপলব্ধি করা ছাড়া যে আর কিছুই করার নেই এখন!

(আসলেই বুকের বামপাশটা টাচ করে গেল)
পুরা গল্পটা আমার সাথে মিলে গেল।আমার বোনের সাথে আমার প্রায় ঝগরা হয় এমন কার কার সাথে হয় 😭
আমরা মেয়েদের যে রূপেই দেখিনা কেনো তাদের ভালোবাসার দাম কোনো দিনও দিতে পারবনা

ভালবাসা

একদিন এক মহিলা তার স্বামীকে পরীক্ষা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিলো !
ভদ্রলোকের ঘরে ঢোকার শব্দ পেয়ে ভদ্রমহিলা খাটের নিচে লুকিয়ে পরল !
পাশেই একটা টেবিলে একটা চিরকুট দেখতে পেয়ে ভদ্রলোকটি পড়তে শুরু করলেন …
স্ত্রী : তুমি এখন আর আমার কেয়ার নাওনা …ভালোবাসোনা… সময় দাওনা.. মনে হচ্ছে তোমার জীবনে অন্য কোনো মেয়ের আগমন ঘটেছে !
দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছো !
তোমার আর কষ্ট করা লাগবেনা !
আমি ই তোমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছি! ভালো থেকো তুমি !
চিড়কুট টি পড়ার পড়ে লোকটি পকেট থেকে ফোন বের করে কানে দিয়ে ই বলতে শুরু করলো…
জানু… আপদটা বিদায় হয়েছে..এখন রিলাক্সে থাকতে পারব !
আমি এখন ই আসছি তোমার সাথে দেখা করতে… ! এসব বলে ফোনটা কেটে দিয়ে ড্রেস চেইঞ্জ করে রুম থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পরল !
এসব শুনতে শুনতে ভদ্রমহিলা মুখ চেপে কান্না করতে লাগলেন !
লোকটি চলে যাওয়ার পরে বিছুক্ষণ পরে খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এলেন !
খাটের উপর একটি চিড়কুট পেলেন…
লেখাটা পড়ে অবাক হয়ে গেলেন !
তাতে লেখা ছিলো…
পাগলী বউ একটা ! খাটের নিচে তোমার পা গুলো দেখা যাচ্ছিল্লো …
আমি তো তোমার জন্য ই কাজকর্মে যাই..তোমার সুখের জন্য ই তো এত কষ্ট করি ! তবু তুমি ভুল বুঝো !
আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি !
আমি কাউকে ই ফোন করিনি !
বাজার থেকে মাংস আনতে যাচ্ছি…
তুমি খাবার রেডি করতে থাকো ..
তারপর একসাথে বসে খাবো কেমন !
আমার পাগলী একটা !
উম্মাহ্ !
লেখাটি দেখে মহিলা বসে পরলেন … কাদতে শুরু করলেন ..
কি ভুলটা ই না করতে যাচ্ছিলেন তিনি !

বি.দ্র : ভালোবাসায় সন্দেহ নয় ..বিশ্বাস রাখতে হয় !
একটা ছেলে যত কষ্ট করে তা তার প্রিয়জনকে সুখী রাখার জন্যই করে !

ভালবাসা

TMPDOODLE1438740065545অবশেষে দেখা হল প্রায় ত্রিশ বছর বাদে ।এতটা সময় আমার ক্ষেত্রে অনেকাংশে সফল হলেও বেবির চেহেরায় তেমন জোরালো থাবা বসাতে পারেনি আজও ।এক নজরেই চিনে ফেললাম ।আমাদের সম্পর্ক কেবলমাত্র একদিনের মেলামেশার ।একসাথে এক দীর্ঘ বাসযাত্রা সেই ত্রিশ বছর আগে ।একটি দুটি করে শব্দ বিনিময় । তারপর ধীরে ধীরে অজস্র শব্দস্রোতে ভেসে গিয়েছিল দুটো নবীন প্রাণ ।বহুদিন চলে গেছে মাঝে ।জীবনপথে অনেক চরাইউতরাই ।কিন্তু স্মৃতিতে উজ্জ্বল বেবি আর ভিতর ভিতর দীর্ঘ অদেখার অন্তদহণ ।মনের ভিতর একটা অপরাধবোধ কাজ করে সর্বক্ষণ ।খুব প্রিয় কিছু দায়িত্ব হীনতার কারণে হারিয়ে ফেলার অপরাধ ।নিঃসংকোচে এগিয়ে গেলাম ।বললাম কেমন আছো বেবি ? চিনতে পেরেছ ? জবাব দিলনা হতবাক আমার আজকের সহযাত্রী ।কেবল দুটো চোখ মেলে প্রাণপনে উথালপাতাল হাতরে যাচ্ছে স্মৃতিচ্যুত মানুষজন ।সাহায্য করতে বললাম আমি গোরা । বেবি তাকিয়েই আছে আমার কাঁচাপাকা চুল দুদিনের না কামানো দাড়িমুখ আর রোগজর্জর চেহেরার দিকে ।তার পর চোখ নামাল ধীরে ধীরে মাথা নারল দুপাশে ।আমি আর দারালাম না ।এক ঝটকায় বেরিয়ে এলাম যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির বেষ্টনী ভেঙ্গে বহুদিন পর ।নিজেকে আজ বেশ হালকা লাগছে ॥

প্রকৃত ভালবাসা

ভালোবাসাটা ভাই-বোনের♥♥♥

ভাই – দিদি পঞ্চাশটা টাকা দে তো।
বোন- কি !! টাকা কি গাছে ধরে নাকি?
ভাই- তুই না কাল টিউশনির টাকা পেলি, ঐখান থেকে দেনা দিদি।
বোন- কানের কাছে ঘেনর ঘেনর করিস নাতো, ভাগ এখান থেকে।
ভাই – আমাকে টাকা দিলেই তো চলে যাই। আচ্ছা পঞ্চাশ টাকা না চল্লিশ টাকা দে।
বোন – ইস্ তোর জ্বালায় আর পারা গেল না। এই নে কুড়ি টাকা, ভাগ এখান থেকে।
ভাই – মাত্র কুড়ি টাকা দিলি । Ok সমস্যা নাই চটপটি এনে তোকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাব । তখন কিন্তু আবার নজর দিস না।
বোন – কি!! চটপটি খাবি তুই। এই নে আরো বিশ টাকা,আমার জন্যেও আনিস।

মোট চল্লিশ টাকা নিয়ে আবির দরজার সামনে গিয়ে বলতে লাগলো……

ভাই – আমি কি তোর মত মেয়ে মানুষ নাকি যে চটপটি খাব! আমার টাকাটা দরকার ছিল তাই তোকে বোকা বানিয়ে নিয়ে গেলাম।
বোন – তবে রে পাজি তোর একদিন কি আমার একদিন। খবরদার আমার টাকা দিয়ে যা,না হয় বাসায় ঢুকতে দিব না।
কে পায় আর আবির এর নাগাল?
আবির এর বড় বোন, আবির যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চটপটি রান্না করেছে কিন্তু খাই নি। মনস্থির করেছে আবির আসলে তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাবে। একটুও দিবে না তাকে।রাত আট টায় বাড়ি ফিরেছে আবির।
আবির ভেবে রেখেছে দিদি অবশ্যই তাকে বকা দিবে কিন্তু না কোন টু শব্দ পর্যন্ত করলো না। আবির ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে। কিছুক্ষণ পর তার বোন একটি প্লেটে করে কি যেন এনে খেতে শুরু করলো।
ভাই – কি খাস দিদি?
বোন – মধু খাই মধু। এই মধুর নাম চটপটি, খাবি…..?
ভাই – দে না দিদি একটু খাই।
বোন – ভাগ এখান থেকে। বিকালে আমার থেকে চটপটির কথা বলে টাকা নিয়েছিস মনে আছে? এখন আমি খাই, তুই চেয়ে চেয়ে দেখ।
আবির গোমরা মুখে বসে আছে আর তার বোন চটপটি খাচ্ছে আর মিটমিট করে হাসছে।
বোন – আবির…
ভাই – বল
বোন – ফ্রিজে, প্লেটে চটপটি রাখা আছে নিয়ে খা। আবার না দিলে তো আমার পেট খারাপ হবে।😉
মূহুর্তেই আবিরের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেল।
ভাই – লক্ষ্মী দিদি আমার…
এই কথা বলে চটপটি আনতে ফ্রিজের দিকে অগ্রসর হয় আবির।
এভাবেই অনেককিছু নিয়ে মান অভিমান করেই কেঁটে গেল অনেকটা বছর।
আজ আবিরের বাড়ি আলোক উজ্জ্বল।নিয়ন বাতিগুলো জ্বলছে আর নিভছে।তার বোনের আজ বিয়ে। কিন্তু আবিরের এর বুক ফেটে কান্না পাচ্ছে..
দিদি চলে গেলে কার সাথে সে খুনসুটি করবে। কে তাকে চটপটি বানিয়ে খাওয়াবে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ এখন বর যাত্রী তার বোনকে কে নিয়ে চলে যাবে,
কিন্তু আবির কিছুতেই মানতে পারছে না যে তার দিদি আর এই বাড়িতে থাকবে না। দুই ভাই বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।
বোন – আবির কথা দে ভাই,দিনে একবার করে হলেও আমার সাথে ঐ বাড়িতে গিয়ে দেখা করবি? কথা দিলাম প্রতিদিন তোকে আমি চটপটি বানিয়ে খাওয়াবো।
আবির এর মুখ দিয়ে কথা বের হয় না, শুধুই নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিদির দিকে। মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।তার চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু নামতে শুরু করেছে।বোন উপস্থিত থাকায় সে বুঝতে পারেনি বোনের ভালোবাসাটা।আজ বোনের ভালোবাসাটা শুধুই স্মৃতি।
সেই স্মৃতিতে ডুবে থেকে বোনের ভালোবাসাটা উপলব্ধি করা ছাড়া যে আর কিছুই করার নেই এখন!

(আসলেই বুকের বামপাশটা টাচ করে গেল)
পুরা গল্পটা আমার সাথে মিলে গেল।আমার বোনের সাথে আমার প্রায় ঝগরা হয় এমন কার কার সাথে হয় 😭
আমরা মেয়েদের যে রূপেই দেখিনা কেনো তাদের ভালোবাসার দাম কোনো দিনও দিতে পারবনা

ছন্দা

এই মুহুর্তে অন্য নারী বলতে মনে পরে ছন্দা তোর কথা ।অনেকের অনেক স্বপ্নের মতো তোরও তো কিছু স্বপ্ন ছিল ।তবে তা ছিল আর পাঁচ জনের থেকে একদম আলাদা ।জীবনের আলটিমেটটাকে তুই বোধহয় মেনে নিসনি কোনোদিনও ।তাই তুই আজ জয়ী ।হয়তো হারিয়ে গেছিস কালের অতল গভীরে তবু তোর নাম কত মানুষের মুখে মুখে ফিরে আজ তুই মিথ ।সন্মান চেয়েছিস তুই চেয়েছিস সব প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে সফল হওয়ার সাফল্য পেয়েছিস জানিস ।আজ তুই সফল ।আজ তোর কথা বলতে গিয়ে যত না চোখ জলে ভরে ওঠে তার চেয়েও বেশী গর্বে ভরে ওঠে বুক ।জানিস তোর কথা বলতে গিয়ে কত খবরের কাগজ কত নিউজ চ্যানেল কত অপচয় করেছে ।ইস দেখলে হাসতিস আমি জানি ।তুই তোর মত একদম তাইতো তোর জন্য ভেবেছি আমি বা আমার মতো অন্য কেউ ।তোকে চিনিনা তবু তুই হয়ে গেছিস খুব আপনারি ।ওই উঁচু কাঞ্চনজঙ্ঘাকে যখন ছুলি কেমন ফিল করেছিস জানতে পারব না কোনোদিন ।তবে তোকে ছুঁতে পেরে আমরা আজ ধন্য ।আমার চোখে আজ তুই অনন্য ।বেঁচে থাক এভাবেই আমাদের মনের স্মরণে ॥